প্রকাশ: ২২ এপ্রিল ২০২৫, ০৪:৪৩ পিএম

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান মুসলমানের ওপর হজ পালন করা ফরজ। কোরআনুল কারিমে আল্লাহ তাআলা বলেন,
“মানুষের মধ্যে যার সামর্থ্য আছে, তার জন্য বায়তুল্লাহ পর্যন্ত পৌঁছে হজ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে ফরজ।” (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)
রাসুলুল্লাহ (সা.) হজের গুরুত্ব সম্পর্কে বলেন, “একজন মুমিনের উত্তম আমল হলো আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি ঈমান, এরপর আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ এবং এরপর হজে মাবরুর।” (বুখারি: ১৪২৯)
ধর্মীয় সূত্র ও আলেমদের ব্যাখ্যানুযায়ী হজ পালনের সময় যেসব বিষয় অবশ্য পালনীয়, যেগুলো পালন না করলে হজ শুদ্ধ হয় না, সেগুলোকে ফরজ বলা হয়। তেমনি কিছু বিষয় ওয়াজিব, যেগুলো ইচ্ছাকৃতভাবে পরিহার করলে ‘দম’ (কোরবানি) আদায় জরুরি হয়। এছাড়া কিছু আমল রয়েছে যেগুলো সুন্নত, অর্থাৎ পালন করলে হজ পূর্ণতা পায় এবং অধিক সওয়াব অর্জিত হয়।
হজের ফরজ (৩টি):
১. ইহরাম গ্রহণ — নির্দিষ্ট নিয়তে ইহরাম বাঁধা ও তালবিয়া পাঠ।
২. উকুফে আরাফা — ৯ জিলহজ জোহর থেকে ১০ জিলহজ ফজরের আগে পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে উপস্থিত থাকা।
৩. তাওয়াফে জিয়ারাহ — ১০ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত যেকোনো সময় কাবাঘর তাওয়াফ করা।
হজের ওয়াজিব (৭টি):
১. মুজদালিফায় অবস্থান — আরাফা থেকে ফেরার পথে ১০ জিলহজ রাতে কিছু সময় মুজদালিফায় অবস্থান।
২. সাঈ — সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সাতবার চলাফেরা করা।
৩. জামারায় পাথর নিক্ষেপ — ১০, ১১ ও ১২ জিলহজ শয়তানের উদ্দেশে পাথর নিক্ষেপ করা।
৪. দমে শোকর — তামাত্তু ও কিরান হজে কোরবানি প্রদান করা।
৫. হালক বা কসর — মাথার চুল মুণ্ডানো বা ছোট করা।
৬. বিদায়ী তাওয়াফ — মক্কা ত্যাগের পূর্বে তাওয়াফে বিদা আদায় করা।
৭. নবী কারিম (সা.)-এর রওজা জিয়ারত — (মুস্তাহাব হিসেবে বিবেচিত, অনেকের মতে সুন্নত)।
হজের সুন্নত (১০টি):
১. তাওয়াফে কুদুম (আগমনের পর কাবা তাওয়াফ)।
২. রমল — তাওয়াফের প্রথম তিন চক্করে দ্রুত ও সাহসিকতার সাথে হাঁটা।
৩. খুতবা প্রদান — ৭ জিলহজ হারাম শরিফে, ৯ জিলহজ আরাফায় এবং ১১ জিলহজ মিনায়।
৪. মিনায় রাত যাপন — ৮ জিলহজ রাতে মিনায় থেকে ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায়।
৫. আরাফায় রওয়ানা — ৯ জিলহজ সূর্যোদয়ের পর মিনার দিক থেকে আরাফায় যাত্রা।
৬. গোসল করা — আরাফার ময়দানে অবস্থানের পূর্বে সকালবেলা গোসল।
৭. সূর্যাস্তের পর মুজদালিফায় গমন।
৮. মিনায় তিন রাত অবস্থান।
৯. মুহাচ্ছারে অবস্থান — মিনা থেকে মক্কা ফেরার পথে কিছু সময় সেখানে থাকা।
১০. সকল আমল সুন্নত মোতাবেক পালন করা।
আল্লামা ও ফকিহগণ মনে করেন, হজের ফরজ ও ওয়াজিব যথাযথভাবে আদায় না করলে হজ শুদ্ধ হয় না কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই একজন হাজির উচিত, হজ পালনের আগে প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা এবং অভিজ্ঞ আলেম বা গাইডের পরামর্শ নেওয়া।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























