প্রকাশ: ১৯ এপ্রিল ২০২৫, ০৬:০২ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মুসলিম Ummah-এর জন্য এক মহিমান্বিত উৎসব। এটি শুধুই আনন্দ ও উৎসবের দিন নয়, বরং আত্মত্যাগ, আল্লাহর প্রতি আনুগত্য এবং দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানোর এক গভীর শিক্ষা বহন করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কার ওপর কোরবানি করা ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী ওয়াজিব?
ইসলামি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রতিটি মুসলিম নারী বা পুরুষ, যিনি ১০ জিলহজ ফজরের সময় থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনের অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবেন, তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হয়ে যাবে।
ইসলামি বিধান অনুযায়ী, নেসাব পরিমাণ সম্পদের মানদণ্ড নির্ধারিত হয়েছে সোনা, রূপা অথবা তাদের সমমূল্যের সম্পদের ভিত্তিতে। অর্থাৎ যার কাছে সাড়ে সাত ভরি সোনা, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা অথবা এর সমপরিমাণ নগদ অর্থ, অলঙ্কার, ব্যবসায়িক পণ্য কিংবা প্রয়োজনের অতিরিক্ত বস্তু রয়েছে, তার ওপর কোরবানি ফরজ নয়, বরং ওয়াজিব হয়ে যায়। এসব সম্পদ যদিও আলাদা আলাদা ভাবে নেসাবের পরিমাণ না হয়, তবুও সব একত্রে মিলিয়ে যদি রূপার নেসাব মানে পৌঁছে, তাহলেও কোরবানির দায়িত্ব বর্তায় তার ওপর।
তবে বসবাসের ঘর, ব্যবহৃত যানবাহন, প্রাত্যহিক প্রয়োজনীয় আসবাব কিংবা জীবিকা নির্বাহের উপকরণ—এগুলো নেসাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। শুধুমাত্র অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় সম্পদই হিসেবের মধ্যে ধরা হবে।
পবিত্র কোরআনে কোরবানির তাৎপর্য সম্পর্কে বলা হয়েছে, “বলুন, আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মরণ সবই জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।” (সুরা আন’আম, আয়াত ১৬২)
হাদিস শরিফে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।” (ইবনে মাজাহ)
জানা গেছে, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় অবস্থানকালে টানা দশ বছর কোরবানি করেছেন। এটি প্রমাণ করে যে, কোরবানি শুধু সুন্নত নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ একটি দায়িত্ব যা মুসলমানদের জীবনে প্রতি বছর পালনযোগ্য একটি ইবাদত হিসেবে বিবেচিত।
একান্নবর্তী পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। যদি পরিবারের একাধিক সদস্যের কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে প্রত্যেকের ওপর আলাদাভাবে কোরবানি ওয়াজিব হবে। একজন সদস্যের কোরবানি অন্যদের দায়মুক্তির কারণ হতে পারে না।
ইসলামি আইনবিদরা স্পষ্ট করেছেন যে, কোরবানি হলো আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট সময়ে পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ত্যাগের প্রকাশ। এটিকে অন্য কোনোভাবে যেমন অর্থ দান বা খাদ্য বিতরণের মাধ্যমে প্রতিস্থাপন করা যাবে না।
ইসলামের আলোকে কোরবানি শুধু ত্যাগ নয়, বরং আল্লাহর আদেশ মান্য করার প্রমাণ। যারা সামর্থ্য রাখেন, তাদের প্রতি আহ্বান—আসন্ন ঈদুল আজহায় শরিয়তের নির্দেশ অনুযায়ী কোরবানি আদায় করে তাকওয়ার প্রমাণ দিন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























