প্রকাশ: ২৫ জুন ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও লেবার পার্টির সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ এবং তার সুনাম ক্ষুণ্ন করার অভিযোগ তুলে তাদের কাছে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ জানায়, এই নোটিশে টিউলিপ অভিযোগ করেন যে, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের আইন সংস্থা স্টেফেনসন হারউড এলএলপি-র মাধ্যমে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে টিউলিপ উল্লেখ করেছেন, তিনি ১৮ মার্চ, ১৫ এপ্রিল এবং ৪ জুন—তিনবার চিঠি পাঠিয়েছেন, কিন্তু কোনো উত্তর পাননি। তার ভাষায়, “এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য হচ্ছে আমার সম্মানহানি করা এবং ব্রিটিশ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলানো, বিশেষ করে আমার নির্বাচনি এলাকা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টি করা।”
তিনি জানান, ইউনূসের লন্ডন সফরের সময় তিনি তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ইউনূস সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইউনূসের এই সিদ্ধান্ত হতাশাজনক এবং তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে টিউলিপের সঙ্গে আলোচনা এড়িয়ে গেছেন।
বিবিসি রেডিও-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইউনূস টিউলিপের সঙ্গে সাক্ষাৎ না করার কারণ হিসেবে বলেন, এটি একটি আইনি বিষয় এবং তিনি এতে হস্তক্ষেপ করতে চান না। নোটিশে এই মন্তব্যেরও সমালোচনা করা হয়।
টিউলিপ আশা প্রকাশ করেছেন, প্রধান উপদেষ্টা ও দুদক এখন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সরে আসবেন। না হলে, ৩০ জুনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না পেলে তিনি ধরেই নেবেন, তারা আর আইনি প্রতিক্রিয়ায় আগ্রহী নন।
এদিকে ড. ইউনূসের প্রেস সচিব শফিকুল আলম স্কাই নিউজকে জানান, ব্রিটিশ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের কোনও ইচ্ছা বা প্রয়োজন নেই। দুদক গুজবে নয়, বরং সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে কাজ করে। তিনি বলেন, “আদালত টিউলিপকে তলব করেছে এবং ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে, এখন আদালতে উপস্থিত হয়ে তার অবস্থান ব্যাখ্যা করা তার দায়িত্ব।”
প্রেস সচিব আরও জানান, প্রয়োজনে টিউলিপকে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে, তার অনুপস্থিতিতেই মামলার কার্যক্রম চলতে পারে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























