প্রকাশ: ১১ মে ২০২৫, ০৪:৪৭ পিএম

আন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের পথে হাঁটছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ মে ইসির পাঁচ সদস্যের কমিশনের বৈঠকে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে দলের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
ইসি সূত্র জানায়, গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগের কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। দলের অধিকাংশ শীর্ষ নেতা বর্তমানে দেশের বাইরে এবং যারা দেশে আছেন তারা অনেকেই গা ঢাকা দিয়ে আছেন। রাজধানীর গুলিস্তানসহ জেলা ও উপজেলা কার্যালয়গুলোও বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও)-১৯৭২ অনুযায়ী, কোনো দলের নিবন্ধন বাতিল করার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো, দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়লে অথবা দলটি সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হলে নিবন্ধন বাতিল করা যেতে পারে।
আরপিও’র ৯০জ(১) ধারায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইসি কোনো দলের নিবন্ধন বাতিল করতে পারে যদি:
(ক) দলটি নিজেই নিজেদের বিলুপ্তি ঘোষণা করে বা নিবন্ধন বাতিলের আবেদন করে;
(খ) সরকার দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে;
(গ) দলটি তিন বছর যাবত প্রয়োজনীয় তথ্য ইসিতে না পাঠায়;
(ঘ) দলটি নিবন্ধনের জন্য আবশ্যিক শর্ত পূরণ না করে।
এছাড়া, যদি কোনো দল পরপর দুটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে, তবে তার নিবন্ধন বাতিল করা যেতে পারে।
বর্তমানে ইসি আইন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিলের জন্য সরকার কর্তৃক দলটি নিষিদ্ধ ঘোষণা করাই যথেষ্ট। ১০ মে সরকার দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এর পরবর্তী গেজেট প্রকাশ হলেই নির্বাচন কমিশন তাদের নিবন্ধন বাতিল করবে।
তবে ইসি বলছে, সরকার কর্তৃক কোনো দল নিষিদ্ধ ঘোষণা করলে দলটি আইনত নিবন্ধন বাতিলের আওতায় চলে আসে, কিন্তু অন্য কোনো কারণে নিবন্ধন বাতিল করতে হলে সংশ্লিষ্ট দলকে শুনানির সুযোগ দিতে হবে।
বর্তমানে ইসিতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫০টি। ২০১৮ সালে ৭৬টি দল নিবন্ধনের জন্য আবেদন করলেও শর্ত পূরণ না করার কারণে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























