প্রকাশ: ২৯ অগাস্ট ২০২৫, ০৮:১৩ পিএম

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিরুদ্ধে র্যাব বিলুপ্তিসহ ১০ দফা সুপারিশ দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে গুমের শিকারদের স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ সুপারিশগুলো তুলে ধরেন সংস্থাটির সিনিয়র রিসার্চার তাকসিম তাহমিনা।
অধিকার-এর ১০ দফা সুপারিশ:
১. গুমের প্রতিটি ঘটনায় স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা।
২. নিখোঁজদের সন্ধানে জাতীয় কৌশল ও নীতিমালা প্রণয়ন।
৩. ফিরে আসা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার।
৪. নিখোঁজ ব্যক্তিদের জন্য “Certificate of Absence” প্রদান ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা।
৫. সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়ন।
৬. সন্ত্রাসবিরোধী আইন ২০০৯ বাতিল বা প্রয়োজনীয় সংশোধন।
৭. র্যাব (র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন) বিলুপ্তি।
৮. গুমের তথ্য ও প্রমাণ নষ্টকারীদের আইনের আওতায় আনা।
৯. দ্রুত, ন্যায্য ও স্বচ্ছ বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।
১০. আন্তর্জাতিক সনদ ICPPED বাস্তবায়ন ও ফরেনসিক সক্ষমতা বৃদ্ধি।
অনুষ্ঠানে অধিকার অভিযোগ করে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আগের সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করে বিরোধীদের দমন করতে গুমকে একটি ‘রাষ্ট্রীয় হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, বিরোধী রাজনীতিক ও সরকারবিরোধীদের গোপনে আটক করে নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর গঠিত ‘গুম তদন্ত কমিশন’-এ বিপুল অভিযোগ জমা পড়ে। কমিশনের রিপোর্টে বলা হয়, গুম পরিকল্পনার একটি ‘তিন স্তরের পিরামিড’ কাঠামো ছিল, যার শীর্ষে ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অধিকার জানায়, বর্তমানে নতুন করে গুমের ঘটনা না ঘটলেও, আগের ঘটনার বিচার প্রক্রিয়া খুবই ধীর। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে—গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত না হলে, ভবিষ্যতে আবারও গুমের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























