প্রকাশ: ৩০ মে ২০২৫, ০৯:২১ পিএম

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে চলছে ভয়ংকর উত্তাল পরিস্থিতি। সাগরে সৃষ্ট স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানিতে সৈকতের দোকানপাট ও স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও, সাগরের রূপ দেখতে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (৩০ মে) হাজারো পর্যটক ভিড় করেছেন সৈকতে।
সকাল থেকেই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে থাকে সুগন্ধা, লাবনী, কলাতলী ও শৈবাল পয়েন্টে। লাইফ গার্ড ও ট্যুরিস্ট পুলিশ মাইকিং করে সতর্ক করলেও অনেকেই উত্তাল সাগরে নেমে পড়েছেন। ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হিমশিম খাচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাগরের বিশাল ঢেউয়ের আঘাতে উপকূলীয় দোকান ও স্থাপনা ভেঙে পড়ছে। সৈকতের মাদ্রাসা থেকে শৈবাল পয়েন্ট পর্যন্ত উপড়ে গেছে ঝাউগাছ। লাবনী ও সুগন্ধা পয়েন্টে বহু দোকান জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ট্যুরিস্ট পুলিশের কন্ট্রোল বক্সও।
সী-সেফ লাইফ গার্ড ইনচার্জ মোহাম্মদ শুক্কুর জানান, “সাগরের এমন ঢেউ আগে দেখা যায়নি। কিছু দোকান পুরোপুরি পানিতে তলিয়ে গেছে। পর্যটকদের নিরাপদ রাখতে আমরা সতর্ক করছি, তবে অনেকে তা উপেক্ষা করছেন।”
গত দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সৈকতপাড়ের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সুগন্ধা পয়েন্টের ব্যবসায়ী করিম বলেন, “দোকানে ২০ হাজার টাকার পণ্য ছিল, জোয়ারের পানিতে সব নষ্ট হয়ে গেছে।” আরেক ব্যবসায়ী আলমগীর জানান, “সুগন্ধা পয়েন্টে প্রায় ৫০০ দোকান আছে। এখন সব বন্ধ। অনেক দোকান তলিয়ে গেছে।”
ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্যেও থেমে নেই পর্যটকদের আগ্রহ। ঢাকার মিরপুর থেকে আসা হোসাইন ইব্রাহীম বলেন, “সাগরের ঢেউ দেখে ভয় লাগছে, কিন্তু মেঘলা আবহাওয়াও দারুণ লাগছে।” আরেক পর্যটক সৈয়দুল করিম বলেন, “এত বড় ঢেউ জীবনে দেখিনি। ভয় লাগছে, আবার দেখতে ভালোও লাগছে।”
তবে ট্যুরিস্ট পুলিশ ও লাইফ গার্ড বারবার সতর্ক করছেন যেন কেউ সাগরে না নামে এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























