প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ০৫:৪৮ পিএম

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার শ্রমবাজারে সিন্ডিকেটের প্রভাব দীর্ঘদিনের। ২০১৮ সালে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ বন্ধ হওয়ার পর, ২০২২ সালের আগস্টে আবারও কর্মী পাঠানো শুরু হয়। তবে ২০২৪ সালের মে মাসে সিন্ডিকেটের কারণে মালয়েশিয়া কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস (বায়রা) এই সিন্ডিকেট ভেঙে বৈধ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর দাবি জানাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন যে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যকার শ্রমচুক্তি সংশোধন করে সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা উচিত। এছাড়া, রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকারের নির্ধারিত ফি ৮০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে, যা কর্মীদের জন্য আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক চার এমপির বিরুদ্ধে মামলা করেছে, যারা এই সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে, রুহুল আমিন স্বপনসহ মূল হোতারা দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনার জন্য ইন্টারপোলের মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
বায়রা সদস্যরা সিন্ডিকেটমুক্ত মালয়েশিয়া শ্রমবাজারের জন্য সরকারের কাছে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “মালয়েশিয়া শ্রমবাজার কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, বরং সব বৈধ এজেন্সির জন্য উন্মুক্ত করতে হবে।”
এছাড়া, বাংলাদেশি কর্মীরা বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে ঋণের ওপর নির্ভরশীল। বিবিএসের তথ্যে দেখা গেছে, ৫৮ দশমিক ২৪ শতাংশ মানুষ বিদেশ যেতে ঋণের ওপর নির্ভর করেন। এতে তাদের আর্থিক চাপ বাড়ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সর্বশেষ, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা লুটে নেওয়ার তথ্য এসেছে। শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে কর্মী পাঠিয়ে ১০০ রিক্রুটিং এজেন্সির চক্র দেড় বছরেই হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা। প্রায় পৌনে ৫ লাখ কর্মীর কাছ থেকে অতিরিক্ত এই অর্থ নিয়ে নিজেদের পকেটে ভরেছে চক্রটি।
এই পরিস্থিতিতে, সিন্ডিকেটমুক্ত মালয়েশিয়া শ্রমবাজার প্রতিষ্ঠা করতে হলে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























