প্রকাশ: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

সিলেট–এর জ্বালানি তেলের ডিপোগুলোর নিরাপত্তা জোরদার, মজুতদারি রোধ এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ২৫ মার্চ সকাল থেকে পদ্মা ও মেঘনা ডিপোসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সিলেটে ২টি এবং পাশের মৌলভীবাজার জেলায় ৩টিসহ সারা দেশে মোট ১৯টি জ্বালানি ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন রয়েছে।
সিলেটের ১৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জুবায়ের আনোয়ার জানান, প্রতিটি ডিপোতে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত টহল ও তদারকি চলছে। পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের নাশকতা দ্রুত প্রতিহত করা যায়। বর্তমানে পদ্মা ও মেঘনা ডিপোতে ১৯ ও ৪৮ বিজিবির দুটি প্লাটুন মোতায়েন রয়েছে। এছাড়া প্রতিটি ডিপোতে পুলিশ ও আনসার সদস্যও দায়িত্ব পালন করছেন।
ডিপোর নিরাপত্তার পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি তেল পাচার ঠেকাতেও কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে এবং ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট ও ল্যান্ড কাস্টমস স্টেশনে আমদানি-রপ্তানির ট্রাক ও লরিতে নিয়মিত তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
এদিকে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুজব ঠেকাতে জেলা প্রশাসনও সক্রিয় হয়েছে। প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যারা সরবরাহ ও বিক্রয় কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
অবৈধ মজুত বা কারসাজির তথ্য দিলে পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। প্রশাসন জানিয়েছে, কেউ যাতে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে যেন কোনো ধরনের সংকট তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই আগাম সতর্কতামূলক এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিজিবি ও প্রশাসনের সমন্বিত তৎপরতায় সিলেটে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে এবং বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকবে।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























