প্রকাশ: ১২ জুন ২০২৫, ০৫:৩৫ পিএম

হজ ইসলাম ধর্মের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি, যা একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজ পালন শেষে একজন মুসলমানের উচিত অর্জিত তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধিকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ধরে রাখা। এজন্য হজ শেষে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।
১. তাওবা ও ইস্তিগফার অব্যাহত রাখা
হজে গিয়ে অনেকেই চোখের পানি ফেলে তাওবা করে, গুনাহ মাফ চায়। ফিরে এসেও এই তাওবার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা উচিত। কুরআনে বলা হয়েছে, “তোমরা সকলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো, হে মুমিনগণ, যাতে তোমরা সফল হতে পারো।” (সুরা আন-নুর: ৩১)
রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “হে মানুষ! তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা করো। আমি নিজে প্রতিদিন একশতবার তাওবা করি।” (সহিহ মুসলিম: ২৭০২)
২. নেক আমলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা
হজের সময় নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, জিকির, দান-সদকা ইত্যাদি যেসব সৎ কাজ করা হয়েছে, সেগুলো যেন নিয়মিত চালু থাকে। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, “আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় আমল হলো নিয়মিতভাবে করা আমল, যদিও তা অল্প।” (বুখারি: ৬৪৬৫)
৩. সদাচরণ ও সামাজিক প্রভাব
হজ মানুষকে ধৈর্য, নম্রতা ও সত্যবাদিতার শিক্ষা দেয়। এই গুণাবলির প্রতিফলন সমাজে ঘটানো উচিত। কুরআনে বলা হয়েছে, “নিশ্চয়ই আল্লাহ সুবিচার, সদাচরণ ও আত্মীয়দের হক আদায়ের আদেশ দেন।” (সুরা নাহল: ৯০)
৪. গুনাহ থেকে বিরত থাকা ও তাকওয়া অর্জন
হজের পরে পুরনো গুনাহর পথে ফিরে না যাওয়ার জন্য চাই তাকওয়ার চর্চা। কুরআনে বলা হয়েছে, “আল্লাহ কেবল পরহেজগারদের আমলই কবুল করেন।” (সুরা মায়েদাহ: ২৭)
৫. হজের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে ভাগ করে নেওয়া
হজে অর্জিত শিক্ষা ও অনুভূতি পরিবার, বন্ধু ও সমাজে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “আমার পক্ষ থেকে (মানুষকে) পৌঁছাও, যদিও একটি আয়াত হয়।” (বুখারি: ৩৪৬১)
৬. হালাল জীবিকা ও আমানতের প্রতি যত্ন
হজের পর জীবিকা অর্জনে হালাল ও সততার পথে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র এবং তিনি শুধু পবিত্র বস্তুই গ্রহণ করেন।” (সহিহ মুসলিম: ১০১৫)
৭. অতীত গুনাহের জন্য বেশি বেশি নেক আমল
পূর্বের ভুল-ভ্রান্তির ক্ষতিপূরণ হিসেবে বেশি নফল নামাজ, রোজা ও দান-সদকা করা উচিত। কুরআনে বলা হয়েছে, “মন্দ কাজের পর ভালো কাজ করো, তা মন্দকে মুছে দেবে।” (তিরমিজি: ১৯৮৭)
৮. হজ কবুল হওয়ার দুআ
হজের পর নিয়মিত এই দুআ করা উচিত, যেন আল্লাহ আমাদের হজ কবুল করেন। রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, “মকবুল হজের পুরস্কার জান্নাত ছাড়া আর কিছু নয়।” (বুখারি: ১৭৭৩)
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























