প্রকাশ: ২৮ মে ২০২৫, ০৪:৩৭ পিএম

সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার কাজিপুরা গ্রামের রাফি ভূইয়া—একজন সরকারি চাকরিজীবী। কিন্তু চাকরির ব্যস্ততার বাইরে তার আরেকটি পরিচয়ও রয়েছে: তিনি একজন সফল খামারি। শখের বশে গরু পালনের যাত্রা শুরু করলেও আজ তা রূপ নিয়েছে একটি লাভজনক খামারে, যা তাকে এনে দিয়েছে পরিচিতি, আত্মবিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক সাফল্য।
রাফির খামারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এখন বিশালদেহী একটি লাল রঙের ষাঁড়, নাম ‘হিরো দ্যা ডন’। ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কেজি ওজনের এই ষাঁড়টির দাম ধরা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। আকৃতি, গঠন ও সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে বহু মানুষ ষাঁড়টিকে এক নজর দেখতে আসছেন।
গাজী গোলাম সারোয়ার জিন্নাহ’র ছেলে রাফি জানান, খামার গড়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল মাত্র ৫ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ নিয়ে। প্রথমে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকায় দুটি ফ্রিজিয়ান জাতের গরু কিনে শুরু করেন, যা থেকে লাভ আসতে থাকলে ধীরে ধীরে বাড়ান গরুর সংখ্যা। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ১১টি গরু, যেগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা।
‘হিরো দ্যা ডন’ ছাড়াও ঈদ বাজারের জন্য রাফির খামারে আরও তিনটি গরু প্রস্তুত রয়েছে—
‘সোনা’: ৯৫০ কেজি ওজনের গীর জাতের গরু, দাম ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা।
‘ক্রাস বাহমার’: ৬৫০ কেজি ওজন, দাম ২ লাখ টাকা।
‘গ্রামার ক্রস বাহম’: ৮০০ কেজির গরু, দাম ৩ লাখ টাকা।
প্রাকৃতিক উপায়ে গরুগুলো মোটাতাজা করেন বলে জানান রাফি। খাবারে কাঁচা ঘাস, ছোলা, ভূটা ও ভূষি ব্যবহার করেন, কোনো রাসায়নিক বা কেমিক্যাল মেশানো হয় না।
ষাঁড়ের নামকরণ প্রসঙ্গে রাফি বলেন, “এর চলাফেরা, চঞ্চলতা এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজে এক ধরনের বীরত্বের ছাপ আছে। মনে হয় যেন কোনো সিনেমার ডনের মতো, তাই নাম রেখেছি ‘হিরো দ্যা ডন’।”
নিজের সাফল্যের পেছনে পরিবার ও নিজের অধ্যবসায়ের ভূমিকাকে সামনে আনেন তিনি। রাফি বলেন, “কোনো কাজই ছোট নয়। নিজের ওপর বিশ্বাস আর ধৈর্য থাকলে সাফল্য আসবেই। চাকরির পাশাপাশি খামারে সময় দেওয়াই আজকের এই অবস্থানের পেছনের মূল কারণ।”
তরুণদের উদ্দেশে তার পরামর্শ, “যে কাজে মনোযোগ দেওয়া যায়, সেটাই বড় কাজ হয়ে ওঠে। পরিবারকে পাশে পেলে সবই সম্ভব।”
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























