প্রকাশ: ২৭ অগাস্ট ২০২৫, ০৪:৫০ পিএম

মেট অফিস জানিয়েছে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে রেকর্ড গরমের একটি মৌসুম হয়ে দাঁড়াতে চলেছে। দেশজুড়ে চারটি তাপপ্রবাহের ফলে এ বছরের গ্রীষ্মের গড় তাপমাত্রা দাঁড়িয়েছে ১৬.১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা আগের রেকর্ড ২০১৮ সালের ১৫.৭৬ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গেছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, আগস্ট মাসের শেষ ক’দিনে যদি তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে গড়ের চেয়ে প্রায় চার ডিগ্রি কমে না যায় — যা সম্ভাবনা কম — তাহলে নতুন রেকর্ড নিশ্চিত। মেট অফিসের বিজ্ঞানী এমিলি কার্লিসল বলেন, “প্রাথমিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, ২০২৫ সালের গ্রীষ্ম হতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্যের ইতিহাসে সবচেয়ে উষ্ণ।”
জুন ও জুলাই মাসজুড়ে চার দফা তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, যেগুলোর বেশ কিছু দিনে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ছাড়িয়েছে। এ সময় বৃষ্টিপাতও ছিল খুবই কম, যার ফলে ইংল্যান্ডে সরকারিভাবে “জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ” পানি সংকট ঘোষণা করা হয়। অনেক এলাকায় পানির ব্যবহার সীমিত করা হয়েছে, কারণ জলাধার, নদী এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত কমে যাচ্ছে।
তবে এবারের গ্রীষ্মে তাপমাত্রা খুব বেশি না বাড়লেও তা দীর্ঘ সময় ধরে ছিল। গ্রীষ্মকালে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ৩৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা ২০২২ সালের সর্বোচ্চ ৪০.৩ ডিগ্রির তুলনায় কম। তবুও দিনের পর দিন উচ্চ তাপমাত্রা ও উষ্ণ রাতের কারণে এবারের গ্রীষ্ম এক অনন্য মাত্রা পেয়েছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বসন্তে শুকনো মাটি, দীর্ঘস্থায়ী উচ্চচাপ, এবং যুক্তরাজ্যের চারপাশের অস্বাভাবিক উষ্ণ সমুদ্র তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। মেট অফিস জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে যুক্তরাজ্যে প্রতি দশকে গড় তাপমাত্রা প্রায় ০.২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বাড়ছে।
এ বছর সমুদ্রে যে তাপপ্রবাহ দেখা গেছে, তাও জলবায়ু পরিবর্তনের একটি পরিণতি বলে মনে করছে মেট অফিস। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জরুরি ব্যবস্থা না নিলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























