প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:৫৩ পিএম

নতুন দল গঠনে করবিনের উদ্যোগ, টার্গেটে ব্রিটিশ বাংলাদেশিরা
প্রবীণ বামপন্থি রাজনীতিক জেরেমি করবিন আবারো ব্রিটিশ রাজনীতিতে আলোড়ন তুলতে মাঠে নেমেছেন। ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক লেবার নেতা এবার নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত দ্বি-দলীয় ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে চান। নির্বাচনের আর এক বছর বাকি থাকতেই ইতোমধ্যেই ‘ব্রেকিং দ্য টু-পার্টি নাইটমেয়ার’ স্লোগানে দেশব্যাপী প্রচার শুরু করেছেন তিনি।
বিশেষভাবে ব্রিটিশ দক্ষিণ এশীয়, মুসলিম ও ফিলিস্তিনপন্থি জনগোষ্ঠীর সমর্থনকে কেন্দ্রে রেখেই সাজানো হচ্ছে দলের রূপরেখা। লন্ডনের ব্রিটিশ বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা যেমন টাওয়ার হ্যামলেটস, সেই সঙ্গে ওল্ডহাম, লুটন, ম্যানচেস্টার ও কার্ডিফে নির্বাচনী কৌশল গড়ে তোলা হচ্ছে।
২০১৫ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত লেবার পার্টির নেতৃত্বে থাকা জেরেমি করবিন ২০২৪ সালের নির্বাচনে নিজ নির্বাচনী এলাকা ইসলিংটন নর্থ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জিতে আসেন। এটি ছিল ১৯৩৫ সালের পর প্রথমবারের মতো ঐ আসনে লেবার প্রার্থীর পরাজয়। এরপর থেকেই তিনি লেবার থেকে বেরিয়ে একটি নতুন, স্বাধীন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাম্প্রতিক এক সভায় করবিন বলেন,
“এই নির্বাচন আমার জীবনের শেষ হতে পারে, তাই আমি এমন কিছু করতে চাই যা ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ—একটি নতুন ইতিহাস গড়তে চাই।”
লেবার পার্টি ত্যাগ করে প্রথমবারের মতো নতুন দল গঠনের ঘোষণা দেন সাবেক এমপি জারা সুলতানা। এরপর করবিনও আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করেন তার নতুন দলের পরিকল্পনা এবং ৪ জুলাই ইলফোর্ড নর্থে প্রথম নির্বাচনী জনসভা করেন।
সেখানে তিনি লেবার সরকারের শিশু দারিদ্র্য এবং গাজা-ইসরায়েল ইস্যুতে কঠোর সমালোচনা করেন, যা উপস্থিত মুসলিম ও ফিলিস্তিনপন্থিদের মধ্যে গভীর প্রতিধ্বনি তোলে।
জানা গেছে, নতুন দলটি টাওয়ার হ্যামলেটসের দুই আসনেই লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
আপসানা বেগমের আসনে করবিন নিজে দলের প্রার্থী হচ্ছেন, এটা নিশ্চিত।
রুশনারা আলীর আসনে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে যিনি বিতর্কিত নন, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি আছে এবং জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও প্রবল।
সূত্র বলছে, এই এলাকায় প্রার্থী নির্ধারণে স্থানীয় বাংলাদেশি রাজনীতিকদের একটি গোষ্ঠীও প্রভাব রাখতে চাইছে।
এছাড়া, রুপা হক ও টিউলিপ সিদ্দিক—এই দুই এমপির আসনেও করবিন শক্তিশালী প্রার্থী দিতে চান। পুরো লন্ডনে অন্তত ৬০টি আসনে তিনি প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
করবিনের রাজনৈতিক কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে ব্রিটিশ মুসলিম, দক্ষিণ এশীয় এবং বিএএমই (Black, Asian and Minority Ethnic) জনগোষ্ঠীর ভোট। লেবার পার্টির সাম্প্রতিক অবস্থানে হতাশ অনেক ফিলিস্তিনপন্থি কর্মী ইতোমধ্যে করবিনের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।
ইহুদি-বিরোধী বক্তব্যের অভিযোগে বহিষ্কৃত হওয়ার পর করবিন যে সোজাসাপ্টা নীতিতে থেকেছেন—অসাম্য দূরীকরণ, যুদ্ধবিরোধিতা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্নে অবিচল অবস্থান—তা তাকে এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তা দিয়েছে।
করবিনের দল এখন বিভিন্ন আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে কাজ করছে। দলীয় নেতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির মূল উদ্দেশ্য ক্ষমতা নয়, প্রতিষ্ঠিত রাজনীতির জগতে একটি নতুন বার্তা পৌঁছানো।
একাধিক বিশ্লেষক বলছেন, যুক্তরাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে করবিনের দল সরকার গঠনে না পারলেও গুরুত্বপূর্ণ কিছু আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা সৃষ্টি করতে পারবে—বিশেষত যেখানে লেবারের ভোট ব্যাংকে ফাটল ধরেছে।
প্রতিষ্ঠিত দুই দল—লেবার এবং কনজারভেটিভ—যেখানে অভিবাসন, গাজা ইস্যু ও সামাজিক অসমতার প্রশ্নে জনগণের আস্থায় ধাক্কা খেয়েছে, সেখানে করবিনের নতুন উদ্যোগ রাজনীতির মূল স্রোতে একটি বিকল্প সুর তুলতে পারে।
“বিন কি ব্রিটিশ রাজনীতির সুর বদলাবে?”—এই প্রশ্নের উত্তর হয়তো আসন্ন নির্বাচনে স্পষ্ট হবে, তবে করবিনের এই নতুন লড়াই যে বহু জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশার আলো জাগিয়েছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























