যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ম্যাক্রোঁর ভাষণ: ইউক্রেন, ব্রেক্সিট, গাজা ও ইউরোপীয় ঐক্যের বার্তা
প্রকাশ: ৯ জুলাই ২০২৫, ০৪:৫০ পিএম

ব্রেক্সিট পরবর্তী সময়ে প্রথম ইউরোপীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে ভাষণ দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। সংসদের রয়্যাল গ্যালারিতে দেওয়া এ ভাষণে তিনি ব্রিটিশ এমপি এবং লর্ডদের সামনে ইউক্রেন যুদ্ধ, অভিবাসন সমস্যা, ইউরোপীয় ঐক্য এবং গাজা সংকটসহ পাঁচটি মূল ইস্যুতে গুরুত্বারোপ করেন।
১. ব্রেক্সিট প্রসঙ্গে সংযত সমালোচনা ও ঐক্যের আহ্বান
ম্যাক্রোঁ বলেন, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরিয়ে গেলেও ইউরোপ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। তিনি বলেন,
“প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, গণতন্ত্র—এইসব বিষয়ে আমাদের পরিচয় ও ভবিষ্যৎ একত্রে গঠিত।”
তিনি পরামর্শ দেন, যুবসমাজের মধ্যে আন্তঃসংযোগ বাড়াতে যেমন একক পরিবহন প্রকল্প চালু করা দরকার, তেমনই আমাদের সমাজগুলো যেন ‘বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ে’, সেদিকেও নজর দেওয়া জরুরি।
২. অভিবাসন ইস্যুতে যৌথ দায়িত্বের উপর জোর
ছোট নৌকায় করে চ্যানেল পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের নিয়ে চলমান সংকটের প্রেক্ষিতে ম্যাক্রোঁ বলেন,
“মানবতা, সংহতি ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে অনিয়মিত অভিবাসন মোকাবেলায় ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের যৌথ দায়িত্ব রয়েছে।”
তিনি মানবপাচারকারীদের কঠোর ভাষায় নিন্দা করে বলেন, এই অপরাধীরা মানুষের জীবনের আশা ও মর্যাদাকে অবমাননা করছে।
৩. ইউক্রেনের প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত
ম্যাক্রোঁ বলেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য একত্রে ইউক্রেনের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে এবং ইউরোপ কখনও ইউক্রেনকে একা ফেলে দেবে না।
“আমরা কখনও সেই বিশ্বাস মেনে নেব না যে শক্তিই সঠিক,”— বলেন ম্যাক্রোঁ।
তিনি ইউরোপীয় নিরাপত্তায় যুক্তরাজ্যের ভূমিকা এবং পরমাণু শক্তি হিসেবে ফ্রান্স-যুক্তরাজ্যের সামরিক নেতৃত্বের গুরুত্বও তুলে ধরেন।
৪. যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর নির্ভরতায় হ্রাসের ডাক
বিশ্ব রাজনীতিতে ইউরোপের আত্মনির্ভরতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে ম্যাক্রোঁ বলেন,
“আমাদের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতায় থাকা বন্ধ করতে হবে।”
তিনি চীনের ভর্তুকিনীতির এবং মার্কিন শুল্কনীতির সমালোচনাও করেন, যা ইউরোপের অর্থনৈতিক ভারসাম্যে প্রভাব ফেলতে পারে।
৫. গাজা সংকটে যুদ্ধবিরতির আহ্বান
গাজা প্রসঙ্গে ম্যাক্রোঁ বলেন,
“জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার জনগণের দুর্ভোগের অবসান অত্যন্ত জরুরি।”
তিনি চলমান সংঘাতকে “অন্তহীন এবং কৌশলগত উদ্দেশ্যবিহীন” বলে আখ্যায়িত করেন এবং দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানকে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























