প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৫, ০৫:৩০ পিএম

যুক্তরাজ্যে পালিয়ে আসা ইউক্রেনীয়দের আশ্রয় আবেদন সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হচ্ছে এই যুক্তিতে যে “তাদের ইউক্রেনে ফিরে যাওয়া এখন নিরাপদ”। আইনজীবীরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন, এবং মানবাধিকারের আন্তর্জাতিক নীতির সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আশ্রয় প্রত্যাখ্যানের কারণ
ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল—যেমন কিয়েভ ও পশ্চিমাঞ্চল—কে এখন যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর “সাধারণত নিরাপদ” হিসেবে বিবেচনা করছে।
আবেদন প্রত্যাখ্যানের চিঠিতে বলা হচ্ছে, আবেদনকারীরা ইউক্রেনের অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে পারেন এবং জাতিসংঘ বা স্থানীয় সংস্থার সহায়তা নিতে পারেন।
আইনজীবীদের উদ্বেগ
স্টার্লিং ল নামক আইনি সহায়তা সংস্থার অভিবাসন আইনজীবী হ্যালিনা সেমচাক বলছেন, এই প্রবণতা জানুয়ারি ২০২৫ সালে গৃহীত নতুন সরকারি নির্দেশনার পর থেকে বেড়েছে।
ইউক্রেনীয়দের অনেকেই যুদ্ধ বিধ্বস্ত এলাকা থেকে এসেছেন, যাদের ফেরত পাঠালে তারা বোমাবর্ষণ, সৈন্য নিয়োগ ও যুদ্ধজনিত মানসিক আঘাতের ঝুঁকিতে পড়বেন।
ব্যক্তিগত গল্প: ওলেকসান্ডার জবিটস্কি
দক্ষিণ ইউক্রেনের ওডেসা থেকে পালিয়ে আসা জবিটস্কি এবং তার পরিবার ২০২২ সাল থেকে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে, যদিও ওডেসায় চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানি ঘটছে।
তার স্ত্রী মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন, এবং তাদের ছোট ছেলে ইতিমধ্যেই ব্রিটিশ সমাজে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে।
সরকারের অবস্থান
যুক্তরাজ্য ২০২২ সাল থেকে ৩ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয়কে আশ্রয় দিয়েছে।
সরকার বলছে, আশ্রয় আবেদনগুলি ব্যক্তিগত ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা হয় এবং কারও জীবন হুমকির মুখে থাকলে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।
বিশেষজ্ঞদের মত
শরণার্থী কাউন্সিল বলছে, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের নতুন নির্দেশিকা যথেষ্ট নমনীয় নয় এবং প্রতিটি আবেদনকারীর বাস্তব অবস্থা পর্যাপ্তভাবে প্রতিফলিত করে না।
পরিসংখ্যান
২০২৩ সাল থেকে:
মাত্র ৪৭ জন ইউক্রেনীয় শরণার্থী মর্যাদা পেয়েছেন।
৭২৪ জন পেয়েছেন মানবিক সুরক্ষা।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























