প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৫, ০৩:৫৪ পিএম

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ি আরোপের ফলে বিপাকে পড়েছেন দেশটিতে বসবাসরত অনেক প্রবাসী, বিশেষ করে বাংলাদেশি কর্মীরা। সরকার এখন স্পনসর লাইসেন্স ব্যবস্থার অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর অভিযান চালাচ্ছে, যার কারণে বহু প্রতিষ্ঠানের স্পনসর অনুমোদন বাতিল করা হয়েছে।
এতে বহু বিদেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন এবং অনেকেই ভিসা বাতিল হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জানান, মাস্টার্স সম্পন্ন করার পর একটি কেয়ার সেক্টরের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি কর্মসংস্থানের ভিসা পান। কিন্তু কাজ শুরুর আগে প্রতিষ্ঠানটি ছয় মাস তাকে অপেক্ষায় রাখে এবং নানা অজুহাতে অর্থ দাবি করে। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই কোম্পানির স্পনসর অনুমোদন বাতিল হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি আর তার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
আরেকজন কর্মী বলেন, রমজানে দৈনিক ১৪ ঘণ্টা কাজ করতে হয়েছে তাকে, এমনকি অসুস্থ অবস্থাতেও বিশ্রামের সুযোগ পাননি। কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল হলেও তাকে কাজে লাগানো হয়। এখন তিনি দেনায় ডুবে গেছেন, কোনো জায়গা থেকে সহায়তাও পাচ্ছেন না।
২০২২ সালে যুক্তরাজ্যের সরকার কেয়ার সেক্টরে শ্রমিক সংকট মোকাবেলায় বিদেশি কর্মীদের জন্য স্কিলড ওয়ার্কার ভিসা চালু করে। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই স্পনসর লাইসেন্স নিয়ে তা অপব্যবহার করতে থাকে, যার ফলে এই সংকট তৈরি হয়েছে।
একটি মানবাধিকার সংগঠনের আইনজীবী জানান, সরকারের নজরদারির ঘাটতির কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র ২০২৪ সালেই প্রায় দেড় হাজার কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল হয়েছে, যার প্রভাবে হাজার হাজার কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সরকার এখন অনিয়মে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে এবং তাদের দু’বছরের জন্য নিষিদ্ধ করছে। তবুও অনেক প্রবাসী অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন পার করছেন—নেই নতুন নিয়োগ, নেই সরকারি সাড়া।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























