প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০২৫, ০৫:২৪ পিএম

ইংল্যান্ডে চিকিৎসা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এখন থেকে চিকিৎসকরা আর সরাসরি ‘সিকনোট’ (fit note) বা ‘কাজে অযোগ্য’ ঘোষণাপত্র দিতে পারবেন না। নতুন পরীক্ষামূলক নীতিমালায়, রোগীদের থেরাপি, কর্মসংস্থান কোচিং এবং সামাজিক প্রেসক্রিপশনে পাঠানো হবে।
🔹 কী পরিবর্তন হচ্ছে?
‘সিকনোট’ দেওয়ার বদলে চিকিৎসকেরা রোগীদের থেরাপি বা অন্যান্য পুনর্বাসনমূলক সেবায় পাঠাবেন।
ফিজিওথেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা, কর্মসংস্থান কোচের সহায়তা — এসবই চিকিৎসার অংশ হবে।
চিকিৎসকদের জন্য বরাদ্দ থাকবে আলাদা বাজেট (১৫টি এলাকায় পাইলট স্কিমের আওতায়)।
🔹 সরকার কেন এই পরিবর্তন আনছে?
স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন:
“বর্তমান সিস্টেম ব্যর্থ। এটি রোগীদের ভালো করছে না এবং অর্থনীতিরও ক্ষতি করছে।”
প্রতিবছর ১ কোটি ১০ লাখ ফিটনোট ইস্যু হয়।
এর ৯৩% তে বলা হয়: রোগী ‘কাজে অযোগ্য’।
সরকারের মতে, এটি আমলাতান্ত্রিক ব্যবস্থা, চিকিৎসা নয়।
🔹 নতুন ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করবে?
মানসিক সমস্যায় আক্রান্তরা পাবেন নমনীয় কাজের সময়ের পরামর্শ, CBT বা talking therapy।
শারীরিক সমস্যায় আক্রান্তরা পাবেন ফিজিওথেরাপি।
চাকরি-বিমুখ বা দীর্ঘদিন কর্মহীন রোগীরা পাবেন সিভি প্রস্তুতি, ইন্টারভিউ প্রশিক্ষণ, এবং পুনঃপ্রশিক্ষণ সহায়তা।
🔹 এর পেছনে আর কী ঘটছে?
এই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত ইউনিভার্সাল ক্রেডিট সংশোধনী বিলও পাস হয়েছে, যাতে কর্মক্ষম ব্যক্তিদের ভাতা কমানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
NHS-এর “টকিং থেরাপি” প্রোগ্রামে গত বছর ৬৭,৭৯৪ জন কর্মসংস্থান সহায়তা পেয়েছেন, যা আগের বছরের চেয়ে ৬২% বেশি।
যুক্তরাজ্য সরকার চিকিৎসা ব্যবস্থাকে শুধুমাত্র ছুটি বা ‘অসুস্থ’ সার্টিফিকেটের বদলে রোগীদের সুস্থ করে তুলতে এবং কাজে ফিরিয়ে আনতে চাইছে। এটি স্বাস্থ্যখাত ও অর্থনীতির মধ্যে সংযোগ তৈরি করার একটি প্রয়াস। তবে এটি বিতর্কও তৈরি করছে, কারণ সবাই মানসিক বা শারীরিকভাবে কাজের জন্য প্রস্তুত নয় — এবং ‘সিকনোট’ একধরনের সুরক্ষা হিসেবে বিবেচিত ছিল।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com























