শিক্ষা

শিক্ষাঙ্গনে ‘ফ্যাসিস্ট’ প্রভাব! জালালাবাদ হোমিও কলেজ নিয়ে বিস্ফোরক

Icon

দ্যা গ্যালাক্সি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ: ২০ মে ২০২৫, ০২:১৫ এএম

শিক্ষাঙ্গনে ‘ফ্যাসিস্ট’ প্রভাব! জালালাবাদ হোমিও কলেজ নিয়ে বিস্ফোরক

সিলেট বিভাগের একমাত্র হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল জুলাই বিপ্লবের পরও ফ্যাসিস্টদের নানামুখী ষড়যন্ত্রের শিকার থেকে মুক্ত হতে পারেনি। যেকোনোভাবে কলেজ দখলে রাখতে মরিয়া তারা।

কলেজে তাদের প্রতারণা ও দুর্নীতির বেশ কিছু অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ বিষয়ে রোববার সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি অভিযোগ পত্র দায়ের করা হয়েছে। যার অনুলিপি কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (শিক্ষা ও আইসিটি) এবং বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিলের রেজিস্ট্রার বরাবর দেওয়া হয়েছে। কলেজের প্রাক্তন/বর্তমান শিক্ষার্থীর ব্যানারে এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।


অভিযোগে একটি হোমিওপ্যাথি সংগঠনের দিকে ইংগিত করে বলা হয়েছে এই সংগঠনে জড়িতরা শুরু থেকে কলেজের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত এবং তারা বিগত আওয়ামীলীগের বিভিন্ন সংগঠনের পদবিধারী নেতা। যারা বিগত সময়ে আওয়ামীলীগের দাপটে কলেজে আধিপত্য বিস্তার করেছে এবং ৫ আগস্টের বিপ্লবের পর নানান ভাবে পরিবেশ ঘোলাটে করে কলেজের সুষ্টু পরিবেশ নষ্ট করার পায়তারায় লিপ্ত। এই সংগঠনের সভাপতি জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল ডা. হোসেন রাজা চৌধুরীর দ্বিতীয় পুত্র আবুল হাসান চৌধুরী।


এসময় দুটি গুরতর প্রতারণা অভিযোগ আনা হয়েছে। সেগুলো হলো কলেজের একজন শিক্ষকের অধ্যাপক না হয়েও অধ্যাপক পদবি ব্যবহার ও পদ ও চাকরি না থাকলেও পদের কথা বলে অবৈধভাবে একজনকে বেতন প্রদান।
অভিযোগ ও সংযুক্তি কাগজসূত্রে জানা যায় কলেজের একজন শিক্ষক ডা. নামর আলী ওরফে এম এন আলী নিজের চেম্বারের সাইনবোর্ড, ব্যানার ও প্রেসক্রিপশনে দীর্ঘাদিন ধরে অধ্যাপক পদবি ব্যবহার করছেন। কিন্তু কলেজের বেতন শিট ও বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল (সাবেক হোমিওপ্যাথিক বোর্ড) প্রেরিত কলেজের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য ও বেতন শিটে নামর আলীর পদবি প্রভাষক লেখা আছে। এমনকি উক্ত কলেজে অধ্যাপক পদধারী কোনো শিক্ষকই নেই।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ডা. নামর আলী বলেন, আমি বিশ বছর থেকে অধ্যাপক ব্যবহার করছি। কেউ কখনো কিছু বলেননি।
প্রতারণা অন্য অভিযোগের ব্যাপারে বলা হয়েছে আবু বকর চৌধুরী জাহান নামে একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার বা আরএমও হিসেবে নিয়মিত মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতন কলেজের নিজস্ব একটি বেতন শিটে স্বাক্ষর দিয়ে নিতেন। কিন্তু আরওএমও হিসেবে তার কোনো বৈধ নিয়োগ নেই। এমনকি বাংলাদেশ হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শিক্ষা কাউন্সিল (সাবেক হোমিওপ্যাথিক বোর্ড) প্রেরিত কলেজের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য ও বেতন শিটে আবু বকর চৌধুরী নামে কোনো নাম নেই। কাউন্সিলের তালিকায় নাম ও বেতনের কথা উল্লেখ না থাকলেও কলেজের একটি বেতন শিটে তার বেতন গ্রহণের স্বাক্ষরসহ দেখা গেছে। কাউন্সিলের কর্মকর্তাদের তালিকায় নাম না থাকলেও কলেজের শিটে দীর্ঘদিন ধরে তিনি কীভাবে বেতন নেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।


উভয় ব্যাপারে কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডা. আবদুল্লাহ আল মুজাহিদ খান বলেন, কলেজে অধ্যাপক পদধারী কেউ নেই। যদি কেউ অধ্যাপক পদ ব্যবহার করেন তাহলে এটি তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করছেন। এবং আবাসিক মেডিকেল অফিসার বা আরএমও হিসেবে যিনি ছিলেন তিনি বর্তমানে নেই। এই পদটি শূণ্য থাকায় কলেজের নিজস্ব তহবিল থেকে আবু বকর চৌধুরী জাহানকে বেতন দেওয়া হতো। তবে তাকে সামনে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে ডা. হোসেন রাজা চৌধুরী কলেজের প্রতিষ্ঠাতা বলা হলেও কীভাবে তিনি প্রতিষ্ঠাতা হলেন তার কোনো প্রমাণ কখনো দেখানো যায়নি। এমনকি কলেজের হোল্ডিং নম্বর “স্বপ্নীল ৭২” কলেজের পাশে হোসেন রাজা পরিবারের বাসার নম্বরও এক। এটা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। এছাড়া কলেজের সীমানার ভেতরে থাকা পানির ট্যাংক থেকে হোসেন রাজার বাসায় সংযোগ গিয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ট্যাংক থেকে কীভাবে ব্যক্তিগত বাড়িতে পানির সংযোগ যায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হোসের রাজা চৌধুরী জীবিত অবস্থায় কখনও কলেজের নাম ফলকে কখনও প্রতিষ্ঠাতা ব্যবহার করেন নি। কিন্তু বিগত আওয়ামী সরকারের সময় তার পরিবারের সদস্যরা নাম ফলকে প্রতিষ্ঠাতা ব্যবহার করেন। তাছাড়া কলেজের নাম জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ হলেও নাম ফলকে ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন হোমিও কলেজের নাম সাবেক হিসেবে কেন ব্যবহৃত হয় তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কারণ ইস্টার্নের মাত্র ৫ বছরের মাথায় জালালাবাদ হোমিও কলেজ ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বলা হচ্ছে।

জালালাবাদ হোমিওপ্যাথিক কলেজের প্রতিষ্ঠাকালীন প্রিন্সিপাল ছিলেন ডা. হোসেন রাজা চৌধুরী। কিন্তু ইস্টার্ন কীভাবে জালালাবাদ হলো আর হোসেন রাজা কীভাবে প্রতিষ্ঠাতা হলেন তা তদন্ত সাপেক্ষ।
এ ব্যাপারে কলেজের গভর্নিং বোর্ডের সভাপতি ও সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নুরের জামান চৌধুরী বলেন, এই বিষয়ে আমি জানিনা। তবে আমি খোজ নিয়ে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি। এবং অবৈধ ভাবে অধ্যাপক ব্যবহার করা ঠিক নয়। এটি প্রতারণা আমিরা শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করব।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদকে বারবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন

© thegalaxynews.com

সাবস্ক্রাইব ও অনুসরণ করুন

শিক্ষা থেকে আরো

সিলেটে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন

সিলেটে এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সম্পন্ন

আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

আরটিএম আল-কবির টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে নবীন বরণ ও বিদায় অনুষ্ঠান

ওসমানীনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটির নেতৃবৃন্দ

ওসমানীনগরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন দি সিলেট ইসলামিক সোসাইটির নেতৃবৃন্দ

করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এইচএসসি পরীক্ষা হবে সময়মতো, বাড়ছে সতর্কতা

করোনা সংক্রমণ বাড়লেও এইচএসসি পরীক্ষা হবে সময়মতো, বাড়ছে সতর্কতা

সম্পাদক : মো নুরুজ্জামান মনি

অনুসরণ করুন