প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৫, ০৪:২৪ পিএম

বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালুর পর অনেকের আশঙ্কা ছিল ডলারের দাম বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা—রেমিট্যান্সের ডলারের দর কমতে শুরু করেছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, তারল্য পরিস্থিতির উন্নতি, আমদানি চাপ হ্রাস এবং রপ্তানি ও রেমিট্যান্স প্রবৃদ্ধি—এই তিন কারণেই কমেছে চাহিদা।
বৃহস্পতিবার বিভিন্ন ব্যাংক রেমিট্যান্স ডলার কিনেছে ১২২.৭০ থেকে ১২২.৮০ টাকায়, যা মে মাসের মাঝামাঝি সময়ের তুলনায় ৫০–৭০ পয়সা কম। সে সময় দর ছিল ১২৩.২০–১২৩.৩০ টাকা।
১৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংক বাজারভিত্তিক বিনিময় হার চালু করার পর ব্যাংকগুলোর ট্রেজারি প্রধানরা অনানুষ্ঠানিকভাবে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকার একটি সীমা ঠিক করেন। এর ফলে বাজারে দাম পড়ে যায়।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “বাজারের চালিকা শক্তি হওয়া উচিত চাহিদা ও সরবরাহ। বর্তমানে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলারের চাহিদা নেই, তাই দাম কমছে।”
তিনি জানান, বিনিয়োগ কার্যক্রম স্থবির থাকায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানি কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলো আগেই অধিকাংশ বকেয়া আমদানি বিল পরিশোধ করে ফেলেছে। ওভার-ইনভয়েসিং ও আন্ডার-ইনভয়েসিং কমে যাওয়াও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে মে পর্যন্ত রপ্তানি আয় ১০.৩৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪.৯৫ বিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে, আমদানি এলসির প্রবৃদ্ধি ছিল মাত্র ২.৯৮ শতাংশ। একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯.৫ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৭ শতাংশ বেশি।
ব্যাংক কর্মকর্তারা মনে করছেন, আগামী নির্বাচন পর্যন্ত বিনিয়োগে স্থবিরতা থাকায় আমদানিও কম থাকবে। ফলে ডলারের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা কম।
একটি বিদেশি মানি এক্সচেঞ্জ হাউসের কান্ট্রি হেড বলেন, “আগে ব্যাংকগুলো আমাদের ডলারের জন্য ফোন করত, এখন আমরা ফোন করেও বিক্রি করতে পারছি না।”
বর্তমানে প্রতিদিনই ডলারের দর গড়ে ৫–১০ সেন্ট কমছে। ব্যাংকগুলোর এমন অবস্থানে বাজারে ডলারের সরবরাহ বাড়ছে, যা বিনিময় হারকে আরও নিচের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, ৪ জুন পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২০.৭৭ বিলিয়ন ডলারে, যা টানা পাঁচ মাস ধরে ২০ বিলিয়নের ওপরে আছে—এটিও স্থিতিশীলতার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























