প্রকাশ: ৪ জুন ২০২৫, ০৩:৩৯ পিএম

আসন্ন ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশের জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য সিলেটে ভিড় জমাতে পারেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। এরই মধ্যে সেখানকার হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টগুলোতে পর্যটকদের আগাম বুকিংয়ে ব্যস্ত সময় চলছে। তবে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় দেখা দিয়েছে বন্যার শঙ্কা। এতে ঈদের ছুটির পর্যটন মৌসুমে ভাটা পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। গত রোববার জনপ্রিয় পর্যটন স্থান সাদাপাথর সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন। তবে জাফলং, বিছানাকান্দি, রাতারগুলসহ অন্যান্য পর্যটন স্পট এখনো খোলা রয়েছে।
পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে বাড়তি পদক্ষেপ। সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদ জানান, প্রতিটি পর্যটন এলাকায় বাড়ানো হয়েছে মনিটরিং, নিয়োগ করা হচ্ছে অতিরিক্ত ট্যুর গাইড এবং তৈরি করা হয়েছে স্পটভিত্তিক রোডম্যাপ। তার ভাষায়, “পর্যটকদের অভিজ্ঞতা যেন ইতিবাচক হয়, সেটিই আমাদের লক্ষ্য।”
সিলেট হোটেল অ্যান্ড গেস্ট হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া জানান, “রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে গত কয়েক বছর পর্যটন খাত ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ২-৩ লাখ পর্যটক আসতে পারে সিলেটে, আর এতে স্থানীয় পর্যটনখাতে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার লেনদেন হতে পারে।”
তবে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অনেক স্পটেই অব্যবস্থাপনা ও দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা পর্যটকদের নিরুৎসাহিত করছে। তারা দাবি তুলেছেন, শুধু পর্যটনকেন্দ্র নয়, সড়ক ও যাতায়াত ব্যবস্থারও দ্রুত উন্নয়ন প্রয়োজন।
ভ্রমণপিয়াসুদের মতে, সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনন্য হলেও কিছু নৈরাজ্যপূর্ণ অবস্থা ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্যে বিঘ্ন ঘটায়। সব মিলিয়ে, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে ঈদের ছুটিতে সিলেট আবারও পর্যটকে মুখর হয়ে উঠবে—এমন আশাই করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা।
অনলাইনে পড়তে স্ক্যান করুন
© thegalaxynews.com
























